🌑 শেষ বাঁশঝাড়ির ডাক
গ্রামটার নাম ছিল শিমুলতলা। গ্রামের শেষ মাথায় একটা পুরনো বাঁশঝাড়ি—দিনের বেলায়ও কেউ সেখানে যেত না। বলা হতো, সূর্য ডোবার পর ওখান থেকে কারো কান্নার শব্দ ভেসে আসে।
রফিক নতুন স্কুলমাস্টার হয়ে গ্রামে এসেছে। এসব গল্পে সে বিশ্বাস করত না। এক রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে সে টর্চ হাতে বাঁশঝাড়ির পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। হঠাৎ পেছন থেকে ভেসে এলো ফিসফিসে ডাক—
“মাস্টার… একটু দাঁড়াও…”
রফিক থমকে দাঁড়াল। গলা শুকিয়ে গেল। চারদিকে তাকিয়েও কাউকে দেখতে পেল না। আবার ডাক—এবার অনেক কাছ থেকে। টর্চের আলো ঘোরাতেই সে দেখল, সাদা শাড়ি পরা এক মহিলা, মুখটা লম্বা চুলে ঢাকা। তার পা দুটো মাটিতে ছুঁয়ে নেই।
রফিক দৌড়াতে গিয়েও পারল না। মহিলাটি ধীরে ধীরে মাথা তুলল। মুখে চোখ নেই—শুধু কালো গহ্বর।
সে বলল, “তুমি কি আমার ছেলেকে দেখেছ?”
পরদিন সকালে বাঁশঝাড়ির পাশে রফিকের নিথর দেহ পাওয়া যায়। চোখ দুটো খোলা, মুখে চরম ভয়ের ছাপ। গ্রামের বুড়োরা বলল, বহু বছর আগে এক মা তার সন্তানকে হারিয়ে এই বাঁশঝাড়িতেই আত্মহত্যা করেছিল।
আজও নাকি রাত হলে বাঁশঝাড়ির দিক থেকে ভেসে আসে সেই ডাক—
“তুমি কি আমার ছেলেকে দেখেছ?”
আর যে শোনে… সে আর ফিরে আসে না।